
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপি বরাবরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও জনগণের পক্ষে অবস্থান করে। এ কারণে দলটি ক্ষমতায় এলে একটি অপশক্তি এর বিরোধিতা শুরু করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নৈরাজ্য, গুপ্ত হামলা, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের অভিযোগের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও শ্রমজীবী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। দেশের শান্তি ও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয়-উপার্জন। তাই দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, গুপ্ত হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও বোমাবাজিসহ সব ধরনের অনাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকরা গায়ের ঘাম ঝরিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। মানুষের নিত্যব্যবহার্য যন্ত্রপাতি, পোশাক, কলম, কাগজ, সড়ক ও বাসস্থান নির্মাণসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সমাবেশে শ্রমজীবী মানুষের ব্যাপক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়া বলতেন—আমিও একজন শ্রমিক, আর এই পরিচয়ে আমি গর্ববোধ করি।’ গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও শান্তির জন্য মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে মানুষের ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষের বড় অংশগ্রহণ ছিল। আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে এমন কিছু করবেন না যাতে আমাদের প্রতিপক্ষ কোনো সুযোগ পায়।’ বিএনপির ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা অন্য কোনো অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের অন্যায় ও অনাচার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, জনগণ যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা দেশের শান্তি ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে নানা ধরনের চক্রান্ত চালাতে পারে। তারেক রহমান দেশসেবার যে সুযোগ পেয়েছেন, তা কাজে লাগাতে পরিশ্রম করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তারেক রহমান সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের উৎপাদন ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মো. রফিকুল আলম মজনু। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক দলের সদস্যসচিব কামরুল ইসলামসহ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।