
ঢাকা: সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও পরিচয়পত্র তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওয়ারী বিভাগ।গ্রেফতাররা হলেন চক্রটির মূলহোতা নিশীত সাহা ওরফে রুবেল (৩২), মো. মিজানুর রহমান মিজান (৫০) ও মো. রিংকু হোসেন (৩২)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির মূলহোতা নিশীত সাহা নিজেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) এবং মিজানুর রহমান নিজেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অডিট অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তারা মো. সবুজ সরকার (২৯) নামের এক চাকরিপ্রার্থীকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান।চক্রটি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য সবুজ সরকারকে তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চতুর্থ তলায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সরকারি সিলযুক্ত ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র ও একটি আইডি কার্ড দেওয়া হয়। চাকরি চূড়ান্ত হয়েছে—এমন বিশ্বাস তৈরি করে বিভিন্ন সময়ে দুটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও একটি বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ১৩ লাখ টাকা নেয় তারা।প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে চক্রটি নিয়মিত একটি সবুজ কভারের ভুয়া হাজিরা খাতায় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষরও নিত। পরে নিয়োগপত্র ও আইডি কার্ড নিয়ে ভূমি অফিসে গেলে সবুজ সরকার জানতে পারেন, তার হাতে দেওয়া সব কাগজপত্রই ভুয়া।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পল্লবী থানায় মামলা করলে তদন্তে নামে ডিবির ওয়ারী বিভাগ। প্রথমে পল্লবী থানার আধুনিক রোড এলাকা থেকে বাবলু নামে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভার ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিশীত সাহা, মিজানুর রহমান ও রিংকু হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।আরও তিন চাকরিপ্রার্থী প্রতারণার শিকারপুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও অন্তত তিন চাকরিপ্রার্থী। তারা হলেন নীলফামারীর শাহারিয়ার ইসলাম ফজল, বগুড়া সদরের মো. আমানু ইসলাম এবং টাঙ্গাইলের মো. আসরাফুল ইসলাম। নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন কৌশলে তাদের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।